বিশ্ব ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার দিবসে উন্মুক্ত আলোচনা

‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু কৃষকের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

মানিকগঞ্জে ‘নিরাপদ পণ্য, আত্মবিশ্বাসী ভোক্তা’ স্লোগানে বিশ্ব ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষ্যে উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদক, বিক্রেতা ও ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সভায়।

রবিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জাগির বন্দর আড়তে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে মানিকগঞ্জ আড়ৎ সমবায় সমিতি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগির বন্দর আড়তের সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুম ভূইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মো. মাসুম ভূইয়া বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষিতে বিষমুক্ত চাষাবাদ বাড়াতে হবে। কৃষকদের সচেতনতার পাশাপাশি ভোক্তাদেরও নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। অধিকাংশ কৃষক ভাই মনে করে বেশি সার-কিটনাশকে বেশি ফলন হয়। জমিতে সার ও কিটনাশক ব্যবহারের মাত্রা কমাতে হবে। তাই আমাদের এমন কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা শাখার সভাপতি এবিএম শামসুন্নবী তুলিপ বলেন, ‘ভোক্তার অধিকার রক্ষায় সচেতনতা সবচেয়ে বড় শক্তি। বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ঠেকাতে ভোক্তাদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য বিষমুক্ত চাষাবাদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য মির্জা ইস্কান্দার বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু কৃষকের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় বক্তারা বলেন, আমরা যা নিজেরা খাব না, অন্যকে তা খাওয়ানো উচিত নয়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিষমুক্ত চাষাবাদ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। সভা থেকে নিরাপদ পণ্য ও বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ