মানিকগঞ্জে বৈচিত্র্যময় অচাষকৃত উদ্ভিদ নিয়ে প্রদর্শনী ও সভা

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অচাষকৃত উদ্ভিদ ও খাদ্য প্রদর্শনী। এতে স্থানীয়ভাবে পাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজি, ভেষজ উদ্ভিদ এবং এসব দিয়ে তৈরি খাবার প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা আগ্রহভরে এসব উদ্ভিদ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং অনেকেই তাদের পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেন।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার আন্ধারমানিক এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘লোকায়ত চর্চা করি, অচাষকৃত উদ্ভিদের বৈচিত্র্য ধরে রাখি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আন্ধারমানিক এসএলসি সেন্টার (আখি আক্তার বাড়ি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় গ্রিন কোয়ালিশন সভা এবং অচাষকৃত উদ্ভিদ ও খাদ্য প্রদর্শনী।

দিনব্যাপী এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব তুলে ধরা, সেগুলোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে করণীয় বিষয়ে স্থানীয় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন কোয়ালিশনের জেলা আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. আব্দুল খালেক। সভা সঞ্চালনা করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, কৃষিবিদ, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, অধ্যাপক মাইনুদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, সাবেক শিক্ষক নেতা মীর্জা ইস্কান্দার, কৃষিবিদ মনিরুল হক, কৃষিবিদ জ্যোতিষ চন্দ্র সরকার, কবি কল্পনা সুলতানা, কবি আনিসুর রহমান খান আলিনুর, গীনি আলমসহ অনেকে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, আমাদের চারপাশে স্বাভাবিকভাবে জন্মানো অসংখ্য অচাষকৃত উদ্ভিদ রয়েছে, যেগুলো একসময় বাঙালির দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এসব উদ্ভিদ শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, পুষ্টি ও ভেষজ গুণাগুণেও সমৃদ্ধ। গ্রামীণ পরিবারগুলো একসময় এসব উদ্ভিদের উপর নির্ভর করে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করত। কিন্তু আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় উচ্চ ফলনশীল ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়া, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক লাভের চিন্তা বাড়ায় ধীরে ধীরে এই অচাষকৃত উদ্ভিদগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।

বক্তারা আরও বলেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শুধু জীববৈচিত্র্যই হুমকির মুখে পড়বে না, বরং মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই এখনই সময় এসব উদ্ভিদ সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার। তারা জোর দিয়ে বলেন, জৈব কৃষি চর্চা বাড়াতে হবে, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অচাষকৃত উদ্ভিদ ও খাদ্য প্রদর্শনী। এতে স্থানীয়ভাবে পাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজি, ভেষজ উদ্ভিদ এবং এসব দিয়ে তৈরি খাবার প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা আগ্রহভরে এসব উদ্ভিদ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং অনেকেই তাদের পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেন। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, অনেক উদ্ভিদ রয়েছে যেগুলো আগে গ্রামে সহজলভ্য ছিল, কিন্তু এখন আর তেমন দেখা যায় না।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে অচাষকৃত উদ্ভিদের সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পথও সুগম হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ