মানিকগঞ্জ-২ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বিজয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা, স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের অনুরণন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশায় ঘনিয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন তিনি কি মন্ত্রী হচ্ছেন?
জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন, ক্লিন ইমেজ, উন্নয়নকেন্দ্রিক পরিকল্পনা এবং মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের কারণে ইঞ্জিনিয়ার শান্ত দ্রুত আস্থা অর্জন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নদীভাঙন রোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে হরিরামপুরে পদ্মা নদীর ভাঙন যে দীর্ঘদিন ধরে হাজারো পরিবারকে বিপর্যস্ত করছে, সে বিষয়ে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়।
প্রতি বর্ষায় বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটান স্থানীয়রা। অস্থায়ী জিওব্যাগ ফেলা ও জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলেই তাদের দাবি। প্রচারণার সময় ইঞ্জিনিয়ার শান্ত প্রতিশ্রুতি দেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে হরিরামপুরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে তিনি উদ্যোগ নেবেন। তার মতে, নদীশাসন ও টেকসই প্রকল্পই পারে নদী তীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
জেলার সচেতন মহল বলছে, তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হলে পদ্মা ভাঙন রোধের উদ্যোগসহ মানিকগঞ্জের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি আসবে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং নদীশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে।
ইঞ্জিনিয়ার শান্তর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তার পিতা মরহুম সামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়া শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা আজও স্মরণ করেন প্রবীণরা। তাদের মতে, সেই সময়ের উন্নয়ন উদ্যোগ জেলার অর্থনীতি ও জীবনমানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জে এখন জোরালো প্রত্যাশা উন্নয়নমুখী চিন্তা, পেশাগত দক্ষতা এবং নদীভাঙন রোধে সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের কারণে ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তাই জেলার সর্বত্র চলছে আলোচনার বিস্তার।


