বালু উত্তোলনের পাশাপাশি জমি কাটার অভিযোগ, মানববন্ধন

নদীর তীরবর্তী কৃষিজমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বালুমহালের সীমানা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষিজমি ও নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিও দাবি করেন তারা।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদীর বালুমহাল ইজারা নেওয়ার পর ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ফসলি জমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তরা সেতুতে এ কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী পৌলি, চামটা ও খাগড়াকুড়ি গ্রামের বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অভিযোগ, কালীগঙ্গা নদীর বালুমহাল ইজারা দেওয়ার পর ইজারাদাররা ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী কৃষিজমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে নদীর পাড় দুর্বল হয়ে ভাঙন বাড়ছে। একপর্যায়ে কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ফলে বছরের পর বছর চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করা কৃষকেরা জমি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, নদীর তীরবর্তী এসব জমিতে ভুট্টা, ধান, পাট, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য আবাদ করা হয়। অনেক পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস এই কৃষিজমি। ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কারণে জমির মাটি সরে যাওয়ার পাশাপাশি নদীর দিকে ভাঙন তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আজগর আলী বলেন, তারা কৃষিজমির ওপর নির্ভর করে সংসার চালান। জমি কেটে নেওয়া হলে চাষাবাদের জায়গা থাকবে না। কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন হলে নিয়ম ও নির্ধারিত সীমানা মেনে করতে হবে। কিন্তু তারা বালু উত্তোলনের পাশাপাশি কৃষিজমি কেটে নেওয়ায় সাধারণ কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নদীর তীরবর্তী কৃষিজমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বালুমহালের সীমানা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষিজমি ও নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিও দাবি করেন তারা।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ