কনকনে শীতে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কম্বল উপহার

বিশেষ করে মাদ্রাসায় আবাসিকভাবে পড়াশোনা করা এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের কষ্ট যেন আরও গভীর। পরিবার থেকে দূরে, সেই সাথে সীমিত উপকরণেই কাটাতে হয় তাদের প্রতিটি রাত। একটি কম্বলই অনেক সময় হয়ে ওঠে শীতের সঙ্গে লড়াইয়ের একমাত্র ভরসা।

গত কয়েকদিন ধরেই মানিকগঞ্জে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। রাত নামলেই ঘন কুয়াশা আর গুড়ি গুড়ি শিশিরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। তাপমাত্রা নামছে সহনীয় মাত্রার নিচে। এই শীত সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে তাদেরই যাদের শীত নিবারণের সামর্থ্য সীমিত।

বিশেষ করে মাদরাসা আবাসিকভাবে পড়াশোনা করা এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের কষ্ট যেন আরও গভীর। পরিবার থেকে দূরে, সেই সাথে সীমিত উপকরণেই কাটাতে হয় তাদের প্রতিটি রাত। একটি কম্বলই অনেক সময় হয়ে ওঠে শীতের সঙ্গে লড়াইয়ের একমাত্র ভরসা।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দুটি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সোমবার রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের অরঙ্গবাদ এলাকার জামি’আ আবু হুরাইরা (রা.) মাদরাসা ও খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) বালিকা মাদরাসার দুইশত এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর মাঝে কম্বল বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

কম্বল পেয়ে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে শিক্ষার্থীরা। জামি’আ আবু হুরাইরা (রা.) মাদরাসার নাজেরা প্রথম শাখার ছাত্র মো. সালমান জানায়, ‘আমার বাড়ি সিংগাইর উপজেলার গারাদিয়া গ্রামে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। একটা কম্বল ছিল, কিন্তু এই তা শীতে যথেষ্ট ছিল না। আজ যেটা পেয়েছি, এটা আমার অনেক কাজে আসবে।’

একই মাদরাসার হিফজ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল বলে, ‘তিন বছর ধরে এখানে পড়াশোনা করছি। কয়েকদিন ধরে খুব শীত। যে কম্বলটা ছিল, সেটা দিয়ে শীত কাটানো যাচ্ছিল না। নতুন কম্বলটা পেয়ে অনেক উপকার হলো।’

এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন- মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলীনুর, বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসমত আলী এবং জামি’আ আবু হুরাইরা (রা.) মাদরাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, ‘সারা দেশের মতো মানিকগঞ্জেও শীতের প্রকোপ বেড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। আজ দুটি মাদরাসায় কম্বল দেওয়া হলো। আমাদের এমন কাজ অব্যাহত থাকবে।’

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ