মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গারিয়া এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণমিছিল করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খানের সমর্থনে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে আঙ্গারিয়া এলাকার বিএনপি নেতা মো. সুজন মিয়ার নেতৃত্বে বের হওয়া মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষরা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রকাশ্যে এই প্রতীকে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দেন।
আঙ্গারিয়া মন্দির কমিটির সভাপতি যতীন্দ্র ভেন্ডার বলেন, ‘অতীতে তারা নিরাপত্তা ও সামাজিক নানা বাস্তবতার কারণে গোপনে ভোট দিয়ে এলেও এবার প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সহায়তা করেছেন।’
মিছিলে অংশ নেওয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সজীব কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা বহু বছর চুপচাপ ভোট দিয়েছি। কিন্তু এবার আর লুকিয়ে নয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, বিপদের সময় সহযোগিতা করেছে। তাই আমরা প্রকাশ্যেই ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ভোটার আশা রানী বলেন, ‘নারীরাও এবার সাহস করে সামনে এসেছে। আমরা নিরাপত্তা ও সম্মান চাই। যারা আমাদের পাশে আছে, আমরাও তাদের পাশে থাকব। এবারের ভোট ধানের শীষেই দেব।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ-২ আসনের দুটি উপজেলায় মোট সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার। তারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলে মিছিল থেকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিংগাইরের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের এই স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এটি শুধু একটি মিছিল নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য ও গণতন্ত্রের পক্ষে একটি সাহসী বার্তা। বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের নেতাকর্মীরা মানবিক দায়িত্ব থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ তারা যে প্রকাশ্যে ধানের শীষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, এটি সেই আস্থার প্রতিফলন। আমি নির্বাচিত হলে মানিকগঞ্জ-২ আসনে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের মানুষ অবহেলিত থাকবে না।’


