পদ্মানদীর ওপারে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের নছরতপুর চর। চারদিকে নদী, নেই স্থায়ী সড়ক, নেই সরকারি সেবা পৌঁছানোর নিশ্চিত ব্যবস্থা। বছরের পর বছর ধরে এখানকার মানুষ বসবাস করলেও শীত এলে তাদের দুর্ভোগ যেন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অথচ এই চরবাসীদের খোঁজ নিতে খুব একটা দেখা যায় না জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কাউকে।
এমন বাস্তবতায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ডেবনেয়ার গ্রুপ’। শনিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে নছরতপুর হাজী মোহাম্মদ শেরজন খান মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে চরাঞ্চলের প্রায় তিন হাজার দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
চরবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তারা নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নছরতপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী নাজিম খান বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে মানুষ এই চরে বসবাস করছে। কিছু পরিবার মাঝে মধ্যে ভিজিএফ কার্ডের সহায়তা পেলেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো নিয়মিত সহযোগিতা তারা পান না। জেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্য এলাকায় কম্বল বিতরণ হলেও চরবাসীরা সেখানে উপেক্ষিতই থেকে যান। তার ভাষায়, এই চরে সত্যিকার অর্থে নিয়মিত পাশে দাঁড়িয়েছে কেবল ডেবনেয়ার গ্রুপ।’
স্থানীয়রা জানান, শুধু শীতবস্ত্র নয়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব অর্থায়নে চরাঞ্চলে আশ্রয়ন প্রকল্প, কাঁচা-পাকা রাস্তা নির্মাণ, মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ, এমনকি কর্মসংস্থানের উদ্যোগও নিয়েছে। ফলে এই দুর্গম চরাঞ্চলে ডেবনেয়ার গ্রুপ এখন ভরসার নাম।
একই গ্রামের গৃহবধূ সাদিয়া বেগম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তারা কোনো সহায়তা পান না বললেই চলে। কিন্তু গত তিন বছর ধরে ডেবনেয়ার গ্রুপ ঈদের সময় শুভেচ্ছা সামগ্রী এবং শীতকালে প্রতিটি বাড়িতে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছে। এতে শীতের কষ্ট অনেকটাই কমে।’
আরো পড়ুন: হরিরামপুরে ডেবনেয়ার গ্রুপের কম্বল পেয়ে খুঁশি ৩ হাজার মানুষ
শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- ধুলশুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জায়েদ খান, নটাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওমর ফারুক, সমাজসেবক ফারুক ওয়াদুদ খান, ধুলশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক হেলালুর রহমান খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ডেবনেয়ার গ্রুপের প্রতিনিধি আকিবুল খান জানান, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। চলতি বছর ২০ হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাত্র দুই দিনেই ছয় হাজার কম্বল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের বাস্তবতা দেখে এখন মনে হচ্ছে ২০ হাজার কম্বল যথেষ্ট হবে না, তাই এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ হাজার করা হবে।’
নদীভাঙন, দারিদ্র্য আর অবহেলায় থাকা এই চরবাসীদের জন্য এমন উদ্যোগ স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।


