বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে প্রাকৃতিক উৎস সুরক্ষা ও লোকায়ত কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরতে হরিরামপুর উপজেলার ভাতছালা বিলে কৃষকবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক, পরিবেশকর্মী ও গ্রামীণ সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
এবারের প্রতিপাদ্য ছিল লয়েটল্যান্ড ও প্রথাগত জ্ঞান; সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য সচিব বাপ্পি খান। সঞ্চালনায় ছিলেন বারসিক কর্মকর্তা সত্ত রঞ্জন সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়। কর্মসূচির ধারণাপত্র পাঠ করেন প্রকল্প কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।
জলাভূমির অতীত ও বর্তমান নিয়ে গল্পকথা উপস্থাপন করেন সংগ্রামী কৃষক নেতা শাজাহান বিশ্বাস, সাজুদুল ইসলাম, ছখিনা বেগম, সুরহাব হোসেন, ইয়ুথ গ্রিন ক্লাবের আব্দুর রহিম, বারসিক কর্মকর্তা সুবীর সরকার, সত্যরঞ্জন সাহা ও মুকতার হোসেনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা জানান, ভাতছালা বিলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ থাকলে জলি আমন, দিঘা, ভাউয়্যালা ধানসহ স্থানীয় জাতের ফসল টিকে থাকবে। একই সঙ্গে দেশীয় মাছ, সরীসৃপ, পাখি, কীটপতঙ্গসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। কৃষকদের ভাষায়, বিলে পানি থাকলে আমাদের বন্ধু শামুখ, ঝিনুক, কাকরা, কুইচা, যোক, ব্যাঙ, সাপ, বেজি, গুইসাপসহ অসংখ্য প্রাণ বাঁচে।
কৃষকরা জানান, ভাতছালা বিলের মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় তারা রাসায়নিক সার ছাড়া দেশীয় ফসল চাষ করে ভালো ফলন পান। এই অঞ্চলে খেসারী, মুসুর, মটরকলই, তিল, তিশি, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, ধনিয়া, কালোজিরা, মেথি, গম, পায়রা এবং মৌসুমি গভীর পানির হিজল-দিঘা ধান চাষ করে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইছামতি নদীতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকায় এখন বিলে দীর্ঘসময় পানি থাকে না। ফলে চাষাবাদে সেচের জন্য নিচের পানি তুলতে হয়, যা ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। তাদের দাবি, ইছামতি নদীর পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা গেলে ভাতছালা বিল আবার জীবন্ত জলাভূমিতে ফিরবে, কৃষি উৎপাদনে স্বস্তি আসবে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।


