মানিকগঞ্জ শহরের পোড়রা এলাকার একটি বাড়িতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছিল এক নারীর দেহব্যবসার অভিযোগ তদন্ত করতে। কিন্তু সেই অভিযানের শেষটা হলো একেবারেই ভিন্নভাবে। ঘরের পেছনে চোখ পড়তেই পুলিশ দেখতে পায় বিশাল আকৃতির একটি গাঁজা গাছ। পরে জানা যায়, গাছটির ওজন সাত কেজিরও বেশি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার পোড়রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই গাঁজা গাছ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। এ সময় বাড়ির মালিক, নিজেকে আইনজীবী পরিচয়দানকারী তৌহিদুর রহমান বাবুকে আটক করা হয়। একই অভিযানে দেহব্যবসার অভিযোগে ঝর্না নামে এক নারীও আটক হন।
পুলিশ জানায়, আগের রাতে বাবু তার বাড়িতে এক নারীকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক কাজের জন্য ঝর্নাকে ডেকে আনেন। বিষয়টি জানতে পেরে ওই নারীর স্বামী সদর থানা পুলিশকে খবর দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বিকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে।
অভিযানের সময় ঘরের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের সরঞ্জাম দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। এতে সন্দেহ আরও জোরালো হলে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পেছনে পাওয়া যায় বিশাল আকৃতির একটি গাঁজা গাছ।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু পুলিশকে জানান, শখের বশে তিনি তিনটি গাঁজা গাছ লাগিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুটি অন্যদের দিয়ে দিয়েছেন, আর একটি নিজের বাড়িতেই ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা এসআই জিয়া জানান, ‘তৌহিদুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি অস্ত্র মামলা, দুটি মাদক মামলা এবং একটি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা রয়েছে। অভিযানের সময় তার ঘর থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।’
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ‘স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে গাঁজা গাছসহ আইনজীবী বাবুকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেহব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝর্নাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন।’


