মানিকগঞ্জে রান্নায় পাঁচফোড়নের ব্যবহার, এর গুণাগুণ, উপকারিতা ও সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে পাঁচফোড়নের সঠিক ব্যবহার ও এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের কার্যালয়ে গ্রীনকোয়ালিশনের আয়োজনে কর্মশালাটি বাস্তবায়ন করে বারসিক।
কর্মশালায় আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কমল দত্তের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বারসিকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক বিমল চন্দ্র রায়।
বক্তব্যে বিমল চন্দ্র রায় বলেন, পাঁচফোড়ন আমাদের দেশীয় খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রান্নায় স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এর বিভিন্ন উপাদানের রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ না করলে এসব মসলার গুণাগুণ অনেকটাই নষ্ট হতে পারে। তাই পাঁচফোড়নের উপাদানগুলো সম্পর্কে জানা এবং সঠিক নিয়মে তা সংরক্ষণ ও রান্নায় ব্যবহার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন মসলা ও দেশীয় খাদ্য উপাদানের ব্যবহার বাড়াতে পারলে একদিকে যেমন কৃষকরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও বৈচিত্র্য আসবে। দেশীয় খাদ্য উপাদানের গুণাগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ঐতিহ্য ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান শিক্ষক ইসকান্দার মির্জা, অধ্যক্ষ মাঈন উদ্দিন, গ্রীনকোয়ালিশন নবগ্রাম ইউনিয়নের আহ্বায়ক মাহমুদ হায়দার, বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের আহ্বায়ক মনিরুল হক মিন্টু, কল্পনা সুলতানা, বাবুর্চি উজ্জ্বল সেন ও লালচান।
বক্তারা পাঁচফোড়নের বিভিন্ন উপাদানের পরিচিতি, রান্নায় এর ব্যবহার, গুণাগুণ ও উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে পাঁচফোড়ন ও এর উপাদানগুলো কীভাবে দীর্ঘদিন ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়েও বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, রান্নায় পাঁচফোড়নের ব্যবহার শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর বিভিন্ন উপাদানের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও পুষ্টিগুণ। তাই সঠিক পরিমাণে এবং যথাযথ পদ্ধতিতে পাঁচফোড়ন ব্যবহার করা হলে খাবারের গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় খাদ্যসংস্কৃতিও সমৃদ্ধ হবে।
কর্মশালায় পাঁচফোড়নের উপাদানগুলোর ব্যবহারিক দিক, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে এর গুরুত্ব নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় খাদ্য উপাদান ও দেশীয় মসলার ব্যবহারকে আরও উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

