লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহরের উপকন্ঠে ভাড়া বাসায় দুই মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহত মেজ মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জে পৌঁছালে সেও মারা যায় বলে নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড দেনায়েতপুর গোডাউন রোডের একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন- মা শাহিনুর (৪০), বড় মেয়ে সায়মা (২২)। মেজো মেয়ে রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইকরা (১৯)। ছোট মেয়ে শিফা (৯)। নিহতদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার লাটিয়া গ্রামে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জহির হোসেন (১৭) নামের আরেক হকার যুবককে উপস্থিত জনতা নিহতদের বাসার ভেতর থেকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে মুর্মুষু অবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে রায়পুর হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। পথিমধ্যে সেও মারা যায়।
ঘাতক জহির হোসেন একই ভবনের সাবেক ভাড়াটিয়া, সে রায়পুর শহরে হকারি করে ফল বিক্রি করতেন বলে স্থানীয়রা জানান। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় বলে জানা গেছে।
তবে কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক সাংবাদিকদের নিকট ৫ জন নিহতের কথা স্বীকার করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।
পুলিশ ঘটনার মুল কারণ উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রেম ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। তারা জানান, ৭/৮ মাস আগে জহির হোসেন বাসা ছেড়ে গেলেও প্রায়ই নিহতদের বাসায় আসা যাওয়া করত।
ঘাতক জহিরকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাকে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে পথিমধ্যে তারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ৫ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের মরদেহ সদর হাসপাতালে রয়েছে। এদের মধ্যে ১জন মা ও তার ৩ মেয়ে। অপরজন ঘাতক। নিহতদের মধ্যে আহত ১ মেয়ে ইকরাকে ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকার কাছাকাছি পৌঁছালে সে পথিমধ্যে মারা যায়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়ে জনতা পুলিশে সোপর্দ করার পর পুলিশ তাকে রায়পুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পথিমধ্যে সেও মারা যায়।
এ দিকে নিহত বড় মেয়ে সায়মা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করার পর মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় সে বাসাতেই অবস্থান করতো বলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজমী নিশ্চিত করেছেন।


