বিশ্বকাপে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এবার শুধু নকআউটের লড়াই নয়, রয়েছে অতীতের এক অস্বস্তিকর রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জও।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত চারবারের দেখায় একবারও জয় পায়নি সেলেসাওরা। তাই ৫ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য কেবল শেষ আট নিশ্চিত করার নয়, বরং দীর্ঘদিনের জয়খরা কাটানোরও মিশন।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান: এগিয়ে নরওয়ে
ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলকে বিশ্বের অন্যতম সফল ও ভয়ঙ্কর দল হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নরওয়ের বিপক্ষে চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। দুই দলের চারটি সাক্ষাতের মধ্যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নরওয়ে, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। অর্থাৎ ব্রাজিল এখনও নরওয়েকে হারানোর স্বাদই পায়নি।
প্রথমবার ১৯৮৮ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ১-১ গোলে ড্র করে দুই দল। এরপর ১৯৯৭ সালে আরেকটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখায় নরওয়ে।
তবে সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি ছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল নরওয়ে। এরপর ২০০৬ সালে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচটিও ১-১ গোলে ড্র হয়। ফলে প্রায় তিন দশক ধরে নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীনই রয়েছে ব্রাজিল।
ব্রাজিলের শক্তি: আক্রমণভাগে তারকার মেলা
অতীতের পরিসংখ্যান যতই প্রতিকূলে থাকুক, বর্তমান ব্রাজিল দল নিয়ে আশাবাদী সমর্থকরা। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে আক্রমণভাগে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, নেইমার, ম্যাতিয়াস কুনহা ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো ম্যাচজয়ী ফুটবলার। জাপানের বিপক্ষে জয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারলে যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে এই আক্রমণভাগ।
নরওয়ের ভরসা হালান্ড
অন্যদিকে, আর্লিং হলান্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নরওয়ে দলও রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জয় এবং জাতীয় দলের হয়ে হালান্ডের ৬০ গোলের মাইলফলক দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখে ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করতে মুখিয়ে আছে ইউরোপের দলটি।
কার জয়ে শেষ হবে লড়াই?
এই ম্যাচে একদিকে থাকবে ব্রাজিলের তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগ, অন্যদিকে নরওয়ের আত্মবিশ্বাস আর অতীতের সাফল্যের স্মৃতি। পরিসংখ্যান বলছে নরওয়ে এগিয়ে, কিন্তু বর্তমান ফর্ম ও দলগত শক্তিতে ব্রাজিলও কম নয়।
এখন দেখার বিষয়, নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা কি ২৭ বছরের জয়হীনতার অভিশাপ কাটিয়ে ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পারেন, নাকি হলান্ডের নরওয়ে আবারও প্রমাণ করবে—ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের অপরাজেয় ইতিহাস কাকতালীয় নয়।
৫ জুলাইয়ের এই মহারণ তাই শুধু নকআউটের লড়াই নয়, বরং ইতিহাস বনাম বর্তমানের এক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ, যার দিকে তাকিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।


