দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনবান্ধব করতে সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
শনিবার (১ আগস্ট) মানিকগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জননেতা হারুণার রশিদ খান মুন্নুর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিমান টিকিটে বিশেষ মূল্যছাড়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে ছাড়, টিকিট সিন্ডিকেট দমন, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিমান ও পর্যটন খাতকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান খাতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
দিনের শুরুতে মন্ত্রী মানিকগঞ্জের মুন্নু সিটিতে মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কবর জিয়ারত এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
পরে পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং মুন্নু মেডিকেল কলেজের নতুন ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে তিনি মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন করেন। একই অনুষ্ঠানে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় হাসপাতালের একদল চিকিৎসককে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আইসিইউ চালুর ফলে মানিকগঞ্জসহ আশপাশের জেলার সংকটাপন্ন রোগীরা স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আফরোজা খানম রিতা বলেন, “আমার বাবা জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তাঁর আদর্শই আমার প্রেরণা। সেই আদর্শ ধারণ করেই মানুষের সেবা করে যেতে চাই এবং মানিকগঞ্জের মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিমান ও পর্যটন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সেবার মানোন্নয়ন, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোগান্তি কমানো, টিকিট বাজারে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করতে নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার সচেতন মানুষকে দেশ ও জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হারুণার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন একজন দূরদর্শী শিল্পোদ্যোক্তা, সফল জননেতা ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে তাঁর অবদান আজও মানিকগঞ্জের মানুষের কাছে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
পরে জেলা বিএনপি ও এর সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠন আয়োজিত দলীয় কার্যালয়ে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।মাহফিল শেষে অসহায় ও গরীবদের মাঝে খাবার বিতরন করা হয়।
এসময় জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী এতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১ আগস্ট হারুণার রশিদ খান মুন্নু ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর নয় বছর পরও শিল্পোন্নয়ন, সমাজকল্যাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তাঁর অবদান এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে মানুষের হৃদয়ে অম্লান করে রেখেছে।


