হজযাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হজ্জ এজেন্সীজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, অতীতে হজ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সংস্কৃতি দূর করে জনবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে হজ এজেন্সিগুলোর যৌক্তিক কমিশন বৃদ্ধির বিষয়েও সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, “হজ আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির এক মহান যাত্রা। এই পবিত্র ইবাদতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উচিত সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা। হজসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা শুধু আইনগত নয়, ধর্মীয় দৃষ্টিতেও জবাবদিহির বিষয়।”
তিনি বলেন, অতীতে বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে হজযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই সিন্ডিকেট ভেঙে প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আফরোজা খানম জানান, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই হজযাত্রীদের বিমান টিকিটের মূল্য ৩৬ হাজার ৮০০ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের আরোপিত বিমান টিকিট-সংক্রান্ত কর কমানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হজ এজেন্সিগুলো দীর্ঘদিন ধরে যৌক্তিক কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় কমানো, টিকিট মূল্য নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমছে, অন্যদিকে সেবার মানও উন্নত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বক্তব্যের শেষে বিমানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক মন্ত্রী হারুণার রশিদ মুন্নুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে হজ্জ এজেন্সীজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর নেতৃবৃন্দ, হজ ও ওমরাহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক হজপ্রত্যাশী ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।


