সদ্য প্রয়াত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এমন কিছু রাজনৈতিক রেকর্ড ও রাষ্ট্রীয় অবদান রয়েছে, যা তাকে সমসাময়িক অন্য সব রাজনীতিবিদ থেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিরল রেকর্ডগুলো
ফার্স্ট লেডি থেকে প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া একমাত্র নারী, যিনি একাধারে ফার্স্ট লেডি ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তিনি ছিলেন ফার্স্ট লেডি। পরে স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নিজ যোগ্যতা ও নেতৃত্বে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। একজন গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হওয়ার এই যাত্রা বিশ্ব রাজনীতিতেও বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
নির্বাচনে কখনো পরাজিত না হওয়া নেত্রী
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি মোট ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিস্ময়করভাবে প্রতিটি আসনেই জয়লাভ করেন তিনি। কখনো সরকারে থেকেও, কখনো বিরোধী দলে থেকেও জনগণের রায় তার পক্ষেই ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এতগুলো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে জয় পাওয়ার নজির আর কোনো নেতার নেই।
৫ আসনে জয়ের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এক সময় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি আসনে নির্বাচন করার সুযোগ পেতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেগম খালেদা জিয়া গড়েন বিরল এক রেকর্ড। ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের জুন এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি পাঁচটি করে মোট ১৫টি আসনে প্রার্থী হন এবং প্রতিটি আসনেই বিজয়ী হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। পরে আইন পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালে তিনি তিনটি আসনে প্রার্থী হয়ে তিনটিতেই জয়লাভ করেন।
সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্কের ইতিহাসে প্রথম নারী চেয়ারপারসন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯২ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। দক্ষিণ এশিয়ার মতো পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি ছিল নারী নেতৃত্বের বড় স্বীকৃতি।
নারী শিক্ষায় যুগান্তকারী সংস্কার
নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তার সরকার দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের স্কুলমুখী হওয়ার হার দ্রুত বাড়ে। পরবর্তীতে এই কর্মসূচি বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে উন্নয়ন মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রায় তিন দশক পর, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে। এর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোনো আলাদা পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় ছিল না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, সম্মাননা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।


