জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে পৃথকভাবে সাজা দেওয়া হলেও সাজাগুলো একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ তাকে ১০ বছর সাজা ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার সময় এ মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনু ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ মে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উত্থাপন শেষ হয়।
ইনুর বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিজ নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া, শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের দমনে গুলির নির্দেশ দেওয়া, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের গুলির নির্দেশ দেওয়া উল্লেখযোগ্য।
২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এ মামলায় ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই বছরের ২ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। এরপর মোট ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন দুজন। যুক্তিতর্ক শুরু হয়, ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৪ মে।
প্রসিকিউশন জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা, হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মী ও পুলিশ নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালায়। এতে সেদিন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মোহাম্মদ উসামা, বাবলু ফরাজী ও ইউসুফ শেখ নামের ছয়জন নিহত হন।
ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, দাবি করে আদালতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে তার খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।


