বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত ‘জাপান–বাংলাদেশ বিজনেস উইমেন কনফারেন্স’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, জাপান শুধু বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীই নয়, বরং দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে পাশে দাঁড়ানো এক বিশ্বস্ত বন্ধু। বর্তমান সরকারও এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করে পারস্পরিক সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পুরোনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু। বাংলাদেশের দুঃসময়ে জাপান সবসময় পাশে থেকেছে। আমরা পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করছি। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে জাপানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে। জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে আফরোজা খানম রিতা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অবৈতনিক করার মাধ্যমে নারীশিক্ষা বিস্তারে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের জন্য ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ততা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, নারীশিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেই একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই সরকার শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রধান প্রতিনিধি, জাপান–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, নারী উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


