বিয়েতে অস্বীকৃতি, প্রেমিকার হাত কেটে নিল প্রেমিক

সায়নের সঙ্গে স্মৃতির বিয়ের বিষয়ে স্মৃতির পরিবার সম্মতি দেয়নি। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্মৃতিও তার বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বলে জানা গেছে।

মেহেরপুরে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় গভীর রাতে প্রেমিকার বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের বিরুদ্ধে। হামলায় প্রেমিকা স্মৃতি আক্তারের ডান হাতের কব্জির নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার বাবা ও মাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

মঙ্গলবার দিনগত রাত প্রায় ১টার দিকে মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত স্মৃতি আক্তার, তার বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত সায়ন হোসেন মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সায়নের সঙ্গে স্মৃতির বিয়ের বিষয়ে স্মৃতির পরিবার সম্মতি দেয়নি। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্মৃতিও তার বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বলে জানা গেছে।

এর জের ধরে মঙ্গলবার দিনগত রাতে সায়ন স্মৃতির বাড়িতে ঢুকে ধারালো রামদা দিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলায় স্মৃতির ডান হাতের কব্জির নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় তার চিৎকার শুনে বাবা-মা এগিয়ে এলে তাদেরও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হামলাকারী পালিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্মৃতি আক্তারের ডান হাতের কব্জির নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার বাম হাতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া মাথা ও বুকে গুরুতর জখম হয়েছে।

তার বাবার বুকে ও বাম হাতে আঘাত রয়েছে। মায়ের বুক ও ডান চোখেও ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম হয়েছে। হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাতেই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে অভিযুক্ত সায়নকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, হামলাকারী সায়নকে গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার বিস্তারিত ও হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!