১৭ বছরে মানিকগঞ্জে তেমন উন্নয়ন হয়নি: খাদ্যমন্ত্রী
মানিকগঞ্জের রাস্তাঘাটসহ সব এলাকার উন্নয়নে যা প্রয়োজন, তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে নিয়ে আসবেন তিনি। এ জন্য এলাকাবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিগত ১৭ বছরে মানিকগঞ্জে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেছেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সব উন্নয়নকাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। তবে পর্যায়ক্রমে জেলার সব এলাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য এলাকাবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় তিনটি সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জের রাস্তাঘাটসহ সব এলাকার উন্নয়নে যা প্রয়োজন, তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে নিয়ে আসবেন তিনি। এ জন্য এলাকাবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীর উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠে-ময়দানে প্রচারণা চালানোর সময় এলাকাবাসীর অন্যতম দাবি ছিল রাস্তাঘাটের উন্নয়ন। সেই দাবি পূরণে আজ সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য মানিকগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাঁর নির্দেশনায় এসব সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হচ্ছে।
সড়কগুলোর কাজের মান ও অগ্রগতি তদারকির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আফরোজা খানম বলেন, কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে কি না, তা এলাকাবাসীকে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আর আন্দোলনের সময় নয়, এখন দেশ গড়ার সময়, এলাকা গড়ার সময়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নকাজে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো ধরনের দলাদলিতে জড়ানো যাবে না। এলাকাবাসীকে নিজেদের এলাকার উন্নয়নকাজের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং কাজের মান বুঝে নিতে হবে।’
শনিবার সদর উপজেলায় উদ্বোধন করা তিনটি সড়ক হলো তরা ব্রিজ-গিলন্ড বাজার সড়ক, গিলন্ড জামে মসজিদ থেকে মুন্নু ফেব্রিকস হয়ে গিলন্ড জিপিএস সড়ক এবং গড়পাড়া ইউনিয়ন অফিস থেকে চান্দইর বাজার হয়ে শাহা সুফি বন্দে আলী মাজার সড়ক।
তরা ব্রিজ-গিলন্ড বাজার সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৭০০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট। সড়কটির উন্নয়নকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ৮২ হাজার টাকার বেশি। আগামী ৩০ মে ২০২৭ সালের মধ্যে কাজটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গিলন্ড জামে মসজিদ থেকে মুন্নু ফেব্রিকস হয়ে গিলন্ড জিপিএস সড়কের এক কিলোমিটার অংশের রক্ষণাবেক্ষণকাজে ব্যয় হবে ৮৬ লাখ ১৪ হাজার টাকার বেশি। আগামী ২ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, গড়পাড়া ইউনিয়ন অফিস থেকে চান্দইর বাজার হয়ে শাহা সুফি বন্দে আলী মাজার সড়কের ১ হাজার ৪৮০ মিটার অংশ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় সংস্কার করা হবে। সড়কটির প্রস্থ ৩ দশমিক ০৫ মিটার। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকার বেশি। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে কাজটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সড়কগুলোর উন্নয়নকাজের উদ্বোধন শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

