সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিলল পেঁপে ক্ষেতে

বেশ কিছুদিন ধরেই নানা পারিবারিক সমস্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন শামসুদ্দিন। তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় পরিবারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে মেয়ের সংসারেও চলছিল অশান্তি। একের পর এক পারিবারিক সংকটে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামে শামসুদ্দিন ওরফে সাম্বু (৪৮) নামে এক রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে বাড়ির অদূরে নিজের লাগানো পেঁপে ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

নিহত শামসুদ্দিন ওরফে সাম্বু মৃত আমজাদ হোসেন ওরফে আমনের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের কাজ করতেন।

নিহতের স্ত্রী কাঞ্চনমালা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে শামসুদ্দিন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম ও ফেলা পেঁপে ক্ষেতে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুকে ঘিরে তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই নানা পারিবারিক সমস্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন শামসুদ্দিন। তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় পরিবারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে মেয়ের সংসারেও চলছিল অশান্তি। একের পর এক পারিবারিক সংকটে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল করে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!