বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপ দিতে বহুমুখী উদ্যোগ সরকারের: বিমানমন্ত্রী

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় একটি শক্তিশালী ও আধুনিক এভিয়েশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও গতিশীল করবে এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো নির্মাণ, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক সংযোগ জোরদারের মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত “Saudia and HSBC: Powering Global Connectivity—Celebrating Saudia’s Journey in Bangladesh” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন এভিয়েশন খাতের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তিনির্ভর যাত্রীসেবা, আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিমান যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু বিমান চলাচল বৃদ্ধি নয়; বরং বাংলাদেশকে এমন একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করা, যা দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করবে। এই অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্বকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি।

বাংলাদেশে সৌদিয়ার দীর্ঘ ৪৬ বছরের কার্যক্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি লাখো যাত্রীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ সহজ করেছে। বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদানের মাধ্যমে সৌদিয়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।

তিনি আরও বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণ কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং বাণিজ্য, পর্যটন, বৈদেশিক বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক) তানভীর গনি, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়া, সৌদিয়া, এইচএসবিসি ব্যাংক এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের বক্তারা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় একটি শক্তিশালী ও আধুনিক এভিয়েশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও গতিশীল করবে এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!