অচাষকৃত উদ্ভিদ মেলা ও স্থানিক রান্না উৎসব

বথুয়া, গিমা, হেলেঞ্চা, কাটানটে, কচু ও থানকুনির মতো পরিচিত অথচ অবহেলিত এসব উদ্ভিদকে বিষমুক্ত ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, আধুনিক কৃষিতে রাসায়নিক নির্ভরতা বাড়লেও এসব প্রাকৃতিক উদ্ভিদ মানবদেহের জন্য নিরাপদ ও উপকারী।

হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং প্রকৃতির দান বিষমুক্ত অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব তুলে ধরতে মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘অচাষকৃত উদ্ভিদ মেলা ও স্থানিক রান্না উৎসব’।

শনিবার জেলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি প্রতিবেশী অঞ্চল মধ্য পুটাইলের কালিগঙ্গা নদীর তীরে এএলসি সেন্টার (রহিমা বেগমের বাড়ি) প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করা হয়।

উদ্যমী নারী সংগঠনের উদ্যোগে এবং গ্রিন কোয়ালিশন ও বারসিকের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবে স্থানীয় কৃষক-কৃষানী, পরিবেশবাদী, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল মাঠের আইল, পুকুরপাড় ও ঝোপঝাড়ে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া অর্ধশতাধিক প্রজাতির অচাষকৃত শাক ও ভেষজ উদ্ভিদের প্রদর্শনী।

বথুয়া, গিমা, হেলেঞ্চা, কাটানটে, কচু ও থানকুনির মতো পরিচিত অথচ অবহেলিত এসব উদ্ভিদকে বিষমুক্ত ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, আধুনিক কৃষিতে রাসায়নিক নির্ভরতা বাড়লেও এসব প্রাকৃতিক উদ্ভিদ মানবদেহের জন্য নিরাপদ ও উপকারী।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘স্থানিক রান্না উৎসব’। এতে স্থানীয় গৃহিণীরা অচাষকৃত উদ্ভিদ ও দেশি উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করেন নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার।

এই আয়োজনের মাধ্যমে একসময় গ্রামবাংলায় প্রচলিত কিন্তু এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। দর্শনার্থীরাও আগ্রহ নিয়ে এসব খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে রহিমা বেগম, উদ্যমী নারী সংগঠনের সদস্য ইয়াসমিন, রওশান আরা, তানিয়া আক্তার ও রিজিয়া বেগম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত উপাদানে উৎপাদিত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। অথচ আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির দান। অচাষকৃত উদ্ভিদ, যা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর। এই মেলার মাধ্যমে আমরা আমাদের শিকড় ও লোকায়ত জ্ঞান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাই।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল উদ্ভিদ চেনা, বীজ বিনিময়, নবীন-প্রবীণদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সদ্য প্রয়াত উদ্যমী নারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মধুমালা বেগমের স্মরণসভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেল্লাই মনসুর উদ্দিন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মীর্জা ইস্কান্দার।

এছাড়া বক্তব্য দেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়, কর্মকর্তা শিমুল কুমার বিশ্বাস, নজরুল ইসলাম, শিবানী চক্রবর্তী, সুবীর সরকার ও গাজী শাহাদাত হোসেন বাদলসহ অন্যরা। বক্তারা মধুমালা বেগমের জীবনসংগ্রাম এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।

তৃতীয় পর্বে গ্রিন কোয়ালিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে আবুল আব্বাসীকে আহ্বায়ক, রৌশনারা বেগমকে সদস্য সচিব এবং নুরুল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট পুটাইল ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে এলাকার প্রবীণ কৃষকদের তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!