মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘দ্য গ্রিন ইভোল্যুশন প্রজেক্ট: পাথওয়েজ টু ট্রান্সফর্মিং ফুড সিস্টেম’ শীর্ষক একটি স্টেকহোল্ডারস মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিসের ট্রেনিং সেন্টারে এই সেমিনারের আয়োজন করে ওয়েভ ফাউন্ডেশন। সহযোগিতায় ছিল ওয়েলথাঙ্গারহিলফে বাংলাদেশ।
শুরুতে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এগ্রোইকোলজি এক্সপার্ট মো. ইসতিয়াক ইসলাম প্রকল্পের ওপর একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে এগ্রো-ইকোলজিক্যাল ফার্মিং, রাসায়নিক কৃষি ও পরিবেশবান্ধব কৃষির পার্থক্য এবং পার্টিসিপেটরি গ্যারান্টি সিস্টেম (পিজিএস) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর সৌরভ কান্তি দাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন- সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাজেদুল ইসলাম, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মাহমুদা আক্তার সুমি এবং প্রকল্প কো-অর্ডিনেটর আনিসুর রহমান।
বক্তারা জানান, এগ্রো-ইকোলজিক্যাল ফার্মিং মূলত প্রকৃতি নির্ভর একটি টেকসই কৃষি পদ্ধতি, যেখানে মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাসায়নিক কৃষিতে সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। পরিবেশবান্ধব কৃষি এই দুইয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত পদ্ধতি, যেখানে উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি কমানো হয়।
পার্টিসিপেটরি গ্যারান্টি সিস্টেম সম্পর্কে বক্তারা বলেন, এটি একটি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত সনদ ব্যবস্থা, যেখানে কৃষক, ভোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে অংশ নিয়ে উৎপাদিত পণ্যের মান যাচাই করেন। এতে খরচ কম, কৃষকবান্ধব এবং স্থানীয় বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সহজ হয়।
এই প্রকল্পের আওতায় সিংগাইর উপজেলার বায়রা, ধল্লা, শায়েস্তা ও জয়মন্ডপ ইউনিয়নের মোট ১০০ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ২৫ জন করে কৃষক রাসায়নিক বিষমুক্ত পদ্ধতিতে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে চাষাবাদ শুরু করবেন।
প্রাথমিকভাবে চারটি ইউনিয়নে এক বিঘা করে মোট চার বিঘা জমিতে চাষাবাদ শুরু হবে। এই কৃষকদের নেতৃত্ব দেবেন চারজন লিড ফার্মার। ইতোমধ্যে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের তিনদিনব্যাপী পিজিএস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা দেশীয় উচ্চ ফলনশীল সবজি উৎপাদন করবেন, যা স্থানীয় বাজারে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেমিনারে স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি, ইমাম-মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং বিভিন্ন বীজ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


