তেলাপোকা: মাথা ছাড়াও বাঁচে, এক মাস না খেয়েও টিকে থাকে!

একটি স্ত্রী তেলাপোকা জীবদ্দশায় কয়েকশ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। দ্রুত বংশবৃদ্ধির এই ক্ষমতার কারণেই একবার কোনো স্থানে তেলাপোকা বাসা বাঁধলে তাদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।

বাড়ির রান্নাঘর, স্টোররুম কিংবা অন্ধকার কোনায় হঠাৎ দেখা মেলে তেলাপোকার। অনেকের কাছে বিরক্তিকর এই পোকাটি আসলে পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর প্রাণী। কোটি কোটি বছর ধরে টিকে থাকা তেলাপোকা এমন কিছু ক্ষমতার অধিকারী, যা শুনলে অনেকেই অবাক হন।

বিজ্ঞানীদের মতে, তেলাপোকার পূর্বপুরুষ পৃথিবীতে ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি বছর আগে। অর্থাৎ ডাইনোসরেরও বহু আগে তাদের অস্তিত্ব ছিল। বর্তমানে পৃথিবীতে ৪ হাজার ৬০০টির বেশি প্রজাতির তেলাপোকা রয়েছে।

তেলাপোকার সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো, মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও এটি কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। কারণ তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। ফলে মাথা ছাড়াও কিছু সময় শরীরের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।

খাবারের ব্যাপারেও তেলাপোকা বেশ অভিযোজনক্ষম। খাবার না পেলেও প্রায় এক মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে পানি ছাড়া সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি টিকে থাকতে পারে না। ভাত, রুটি, ফলমূল, কাগজ, কাপড়ের আঁশ, এমনকি আঠাও খেয়ে ফেলতে পারে তারা।

গবেষণায় দেখা গেছে, তেলাপোকা নিজের শরীরের দৈর্ঘ্যের প্রায় ৫০ গুণ দূরত্ব প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রম করতে পারে। এই কারণে তারা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তেলাপোকা সাধারণত রাতচরা প্রাণী। দিনের আলো এড়িয়ে তারা অন্ধকার ও আর্দ্র স্থানে লুকিয়ে থাকে। রাতে খাবারের খোঁজে বের হয়।

আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, একটি স্ত্রী তেলাপোকা জীবদ্দশায় কয়েকশ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। দ্রুত বংশবৃদ্ধির এই ক্ষমতার কারণেই একবার কোনো স্থানে তেলাপোকা বাসা বাঁধলে তাদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলাপোকা শুধু টিকে থাকার ক্ষমতার জন্যই নয়, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতার কারণেও পৃথিবীর সবচেয়ে সফল কীটপতঙ্গগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!