টানা বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় ক্ষতির শঙ্কা কাটতে না কাটতেই সুনামগঞ্জে আবারও শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। এতে শুক্রবার হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ বন্ধ রয়েছে। কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।
গত কয়েকদিন রোদ থাকায় হাওরপাড়ে স্বস্তি ফিরেছিল। কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে আবারও ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হওয়ায় কাজে বিঘ্ন ঘটেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ১৮ মে পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সুরমা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় শহরের ষোলঘর পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগাম বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে প্রায় ৮৯ শতাংশ। শিলাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত জমির পরিমাণ ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর।
জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক মিজবাহুল কবীর চৌধুরী জানান, তার ২৮ কিয়ার জমির মধ্যে ৮ কিয়া পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি ধানের কিছু কাটা হলেও এখনও প্রায় ১০০ মণ ধান হাওরে পড়ে আছে। রোদ না থাকায় ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না।


