মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় মো. পারভেজ (২৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহতের বাবা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
আহত পারভেজ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনবারিল গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে- সদর উপজেলার খাবাশপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বি আহম্মেদ (২২), অয়ন (১৯), সিংগাইর উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রামের সোহাগ (২০), একই গ্রামের ঝন্টুর ছেলে সোহান (২০), খাবাশপুর গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেন (২৪) এবং শেখ হারুনের ছেলে কামরুল ইসলামকে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসা করার সুবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পারভেজের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল অভিযুক্তরা। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
গত ২০ মে সকাল ১০টার দিকে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে পারভেজ মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাপলা ক্লিনিকে যান। পরে স্ত্রীকে অটোরিকশায় বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে প্রতিবেশী কাকা হাসানুল হক হাসানকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার মিতরা-বরুন্ডী সড়কের একটি ফাঁকা স্থানে পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাদের গতিরোধ করে।
এ সময় অভিযুক্তরা চাইনিজ কুড়াল, রামদা চাপাতি, লোহার হাতুড়ি ও কাঠের বাটাম নিয়ে পারভেজের কাছে আবারও চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, রাব্বি আহম্মেদ তার হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে পারভেজের মাথায় কোপ দেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অয়ন রামদার বাঁট দিয়ে তার বাম হাতে আঘাত করেন। এতে তার হাতের হাড় ভেঙে যায়। পরে সোহাগ, সোহান, মোবারক ও কামরুল লোহার রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে সোহান পারভেজের প্যান্টের পকেট থেকে ২৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারভেজকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হাসানুল হক হাসানকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা থানা-পুলিশ করলে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত পারভেজকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার সার্জারি বিভাগের ৭ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতের বাবা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি, রামদা, হাতুড়ি ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। তার মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং হাত ভেঙে গেছে। এখনো সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। যারা হামলা করেছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


