কঙ্গোতে ইবোলা মহামারি, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ২৩০২৫

কঙ্গোর দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, দুর্গম অঞ্চল এবং প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সীমান্তবর্তী সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের চলমান প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ হাজার ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) কঙ্গোর ন্যাশনাল পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০১ জন শনাক্ত হয়েছেন।

জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, সংক্রমণ ছড়ানোর দিক থেকে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রাদুর্ভাব। দ্রুত পদক্ষেপ, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও বৈশ্বিক সংহতির ওপর জোর দেন তিনি।

এটি ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবে ২২ হাজার ৯৯ জন মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে এটি ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চলতি বছরের ১৫ মে প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকে। এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। কঙ্গোর দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, দুর্গম অঞ্চল এবং প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সীমান্তবর্তী সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আক্রান্তদের মৃত্যুহার জুনের শুরুতে ২০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!