শিবালয়ে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, অভিযুক্ত ‘সুজন বাহিনী’

সুজন মৃধার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার সাজাও হয়েছে।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব টিটনের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে সুজন মৃধা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে জামসা-গায়ানবাড়ি ব্রীজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তার বাম হাত ও বাম পা ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী টিটনের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে তার এক কর্মীকে মারধর করে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। সুজন মৃধা, জাকির, শাহীন ও জনিসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন পিস্তল, ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তার বাম হাত ও বাম পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলাফুলা জখম হয় বলে জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী জামসা এলাকার কালাম জানান, আমি ও শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক টিটন মানিকগঞ্জে যাচ্ছিলাম। জামসা গায়ানবাড়ি ব্রীজে আসলে সুজনসহ তার সহযোগী পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। আহবায়ককে হাতুরি দিয়ে বেধড়ক মারপিঠ করছে। পরে ডেগার বের করলে আমি প্রানের ভয়ে আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই।

কাইয়ুমসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুজন মৃধা কয়েকজন যুবককে নিয়ে এলাকায় একটি প্রভাবশালী দল গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন সময় তারা এলাকায় মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকান্ড করছেন। তাঁর ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

টিটনের দাবি, সুজন মৃধার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার সাজাও হয়েছে।

গাজী আহসান হাবীব টিটন বলেন, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে তিনি একাধিক হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এখনো তাঁকে হামলার শিকার হতে হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জাকিরের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, মারধরের সাথে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উল্টো আমার বাড়িতে হামলা করায় হরিরামপুর থানায় টিটন বাহিনীর নামে অভিযোগ করেছি। অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!