হরিরামপুরে ডেবনেয়ার গ্রুপের কম্বল পেয়ে খুঁশি ৩ হাজার মানুষ

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খান বাড়িতে ধূলশুড়া ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে ডেবনেয়ার গ্রুপ।

পদ্মা নদীঘেঁষা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধূলশুড়া ইউনিয়নের বাবুর হাটি গ্রামে টিনের পুরনো ঘরে একা থাকেন প্রায় আশি বছরের বৃদ্ধা মিলন দাসী সরকার। দুই বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই জীবনটা যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে তার। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জননী মিলন দাসী। ছেলেদের সবারই আলাদা সংসার। সামান্য আয়ে নিজেদের পরিবার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। তারপরও যতটুকু পারেন, মায়ের পাশে দাঁড়ান। সেই সামান্য সহযোগিতাতেই কোনোমতে দিন চলছিল মিলন দাসীর।

কিন্তু কয়েকদিনের তীব্র শীতে পদ্মা পাড়ের এই বৃদ্ধার কষ্ট যেন আরও বেড়ে যায়। শীত নিবারণের মতো পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় কাঁপুনি নিয়েই কাটত দিন-রাত।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খান বাড়িতে ধূলশুড়া ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে ডেবনেয়ার গ্রুপ। সেই তালিকায় ছিলেন মিলন দাসী সরকারও।

একটি কম্বল হাতে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখে জল নিয়ে বলছিলেন, ‘এই শীতে একটি কম্বল অনেক প্রয়োজন ছিল আমার। কিন্তু ছেলেদের আয় কম আর সংসার আলাদা থাকায় তাদেরকে বলতাম না। কষ্ট করে নিজেই কোনভাবে থাকার চেষ্টা করেছি। এখন রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারব।’

মিলন দাসীর মতোই কম্বল পেয়ে খুশি প্রায় তিন হাজার মানুষ। তাদেরই একজন প্রায় নব্বই বছর বয়সী অনন্ত তেঁড়ি। পদ্মা নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে একই ইউনিয়নের খামারহাটিতে আশ্রয় তার। তিনি জানান, ‘আমার তিন ছেলে আলাদা হয়ে গেছে। আমি আর আমার স্ত্রী কল্যাণী এই শীতে খুব কষ্ট করছিলাম। আজ এই কম্বল পেয়ে মনে হচ্ছে আবার বেঁচে থাকার শক্তি পেলাম।’

একই কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আশি ঊর্ধ্ব ফজলু মিয়া। তিনি বলেন, ‘ছোট ছেলের সামান্য আয়ে আমাদের দুজনের চলা খুব কষ্টের। এই কম্বল পেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যারা দিয়েছে তারা যেন ভালো থাকেন। তারা কয়েকমাস আগেও আমাদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

ধূলশুড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সব সময় নানা সমস্যা সমাধানে ডেবনেয়ার গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে। তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তাঘাট ও নদী ভাঙনরোধে অনেক কাজ করেন। আজ তারা তিন হাজার মানুষকে কম্বল দিয়েছেন। কয়েকমাস আগে আমাদের এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে বিনামূল্যে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন। আমরা ডেবনেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ূব খান মহোদয়ের সুস্বাস্থ্য কামনা করি যেন তিনি এমন কাজ সবসময় করে যেতে পারেন।’

ডেবনেয়ার গ্রুপের প্রতিনিধি মো. আকিবুল খান জানান, ‘সারা দেশের মতো মানিকগঞ্জেও শীত পড়েছে। তবে পদ্মা অধ্যুষিত এলাকায় সন্ধ্যার পর হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। সেই কথা মাথায় রেখেই প্রতিবছরের মতো এবারও ডেবনেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ূব খানের উদ্যোগে ধূলশুড়া ইউনিয়নের তিন হাজার মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মানিকগঞ্জের অন্যান্য উপজেলা এবং দোহার-নবাবগঞ্জ মিলিয়ে আরো ১৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মো. আওলাদ হোসেন, ধূলশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদ খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফারুক ওয়াদুদ খান, ধূলশুড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, সহসভাপতি বিল্লাল খান, সাধারণ সম্পাদক হেলালুর রহমান খান প্রমুখ।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!