মানিকগঞ্জে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ঘিওর উপজেলার ড. আবদুর রহিম খান মহিলা কলেজ, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলাম মনির হোসেন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসা এবং সাটুরিয়া উপজেলার দারগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি।

মানিকগঞ্জে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে দুটি কলেজ ও দুটি মাদ্রাসা রয়েছে। এ ছাড়া জেলার ৪২টি কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত জেলাভিত্তিক ফলাফল পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ঘিওর উপজেলার ড. আবদুর রহিম খান মহিলা কলেজ, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলাম মনির হোসেন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসা এবং সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি।
এর মধ্যে ড. আবদুর রহিম খান মহিলা কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। গোলাম মনির হোসেন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন, বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে নয়জন এবং দারগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। চার প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই ফেল করেছেন।
শুধু এ চার প্রতিষ্ঠান নয়, জেলার অধিকাংশ কলেজ ও মাদ্রাসার ফলাফলও হতাশাজনক। সাত উপজেলার ৩৫টি কলেজ ও সাতটি মাদ্রাসা থেকে মোট ১০ হাজার ৩৯৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ৯৬৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ হাজার ৪২৯ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৩৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ জেলার এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে দৌলতপুর। উপজেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৭৮ জন। পাসের হার ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি। অন্যদিকে ঘিওর উপজেলার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫৫ দশমিক ১১ শতাংশ। সাত উপজেলার মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। তবে এ উপজেলাতেও ৩১৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
জেলার ৪২টি কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র ১২টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৯ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই পেয়েছেন ৭৫ জন। বিপরীতে দৌলতপুরের কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
ফলাফলে চার প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া এবং ৩০টি প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ না পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।







